যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও অবরোধকে গণহত্যার শামিল বলে তোপ দাগলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিউবার জনগণের ওপর ‘গণহত্যা’ পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন। ১৯৫৩ সালের কিউবান বিপ্লবের ৭৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি ওয়াশিংটনের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধকে কিউবাকে শ্বাসরোধ করে দখলের চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। পিনার দেল রিওতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সুপরিকল্পিতভাবে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে দেশটি ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ওয়াশিংটন কিউবার ওপর জ্বালানি তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকেই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটিতে প্রতিদিন ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে স্থবির করে তুলেছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে কলকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং কর্মঘণ্টা সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে খাদ্য, ওষুধ ও পানি সরবরাহে তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অর্থনীতি এক নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান সংকটের কারণে ভিসা, মাস্টারকার্ড, স্পেনের মেলিয়া হোটেল চেইনসহ এয়ার কানাডা এবং এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কিউবা থেকে নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। দিয়াজ-কানেল দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার অর্থনীতিকে গলা টিপে হত্যার মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় কিউবার নেতৃত্বের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কিউবার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও ল্যাটিন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিপ্লবী নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার দায়ে হত্যাসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ এনেছে। কিউবা সরকার এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরী নীতিকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের এই বিপ্লবই পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে ফুলহেনসিও বাতিস্তার একনায়কতন্ত্রের পতনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তবে রবিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে বিপ্লবের অন্যতম পুরোধা ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ৯৫ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোর অনুপস্থিতি সবার নজর কেড়েছে। কিউবার কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংলাপ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীর সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা