আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মেয়রের কঠোর অবস্থানের মুখেও জাতিসংঘে আসার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কঠোর সমালোচনা করে তাকে ‘বিদ্বেষ ছড়ানোর’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিউইয়র্কে তার আগমনের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘে বক্তব্য রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নেতানিয়াহু। ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে তিনি ইসরায়েল এবং ইসরায়েল-আমেরিকা মৈত্রীর পক্ষে সত্য তুলে ধরতে চান।

বিজ্ঞাপন

নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন যে, মেয়র মামদানি নিউইয়র্কের সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব না করে বরং ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন। তার ভাষ্যমতে, মার্কিন ইহুদিরা বর্তমানে ভীত অবস্থায় রয়েছেন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের গত জুনের একটি জরিপ বলছে ভিন্ন কথা। জরিপ অনুযায়ী, এক হাজারেরও বেশি মার্কিন ইহুদি প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নেতানিয়াহুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, যেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই তার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন।

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে মেয়র মামদানিকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠলেও জনমত জরিপে তার অবস্থান নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশ শক্ত। একই জরিপে দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন যে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে। এদিকে ইউগভ-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, ৪৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত, যেখানে এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন ২৮ শতাংশ মানুষ।

গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থীদের ব্যাপক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেশটিকে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ক্রমেই কমে আসছে। অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিসহ ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো মার্কিন ভোটারদের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, মেয়র মামদানি এবং তার পরিবার ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা উদযাপন করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অথচ মেয়র মামদানি বারবার ৭ অক্টোবরের ওই আক্রমণকে ‘ভীতিকর যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারের দাবি তুললেও বর্তমানে স্বীকার করেছেন যে, নিউইয়র্ক শহরের নিজস্ব কোনো আইনি এখতিয়ার নেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার। সূত্র: রয়টার্স ও এপি-এনওআরসি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%