মার্কিন নতুন শুল্ক আরোপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটনের দাবি—সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে অভিযুক্ত অধিকাংশ দেশই ওয়াশিংটনের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফারেল জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে তার দেশের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে একে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। অ্যাডিলেডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আধুনিক দাসত্ব প্রথা নির্মূলে অস্ট্রেলিয়া কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে। একইভাবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযোগের সপক্ষে কোনো অর্থবহ প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ব্রিটেন অবশ্য কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে, কারণ পূর্ববর্তী বাণিজ্য চুক্তির সুবাদে তাদের ওপর নতুন এই শুল্কের তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার ঠেকাতে লন্ডন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ওয়াশিংটন তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করেছে। অন্যদিকে, জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা এ সিদ্ধান্তে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জাপানি শিল্প ও বাণিজ্য পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ দুঃখজনক।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই পরিস্থিতিকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন এই নীতি ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আগের বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একতরফা শুল্ক আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বাণিজ্য যুদ্ধ বা শুল্ক যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো পক্ষই লাভবান হয় না। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এই নতুন শুল্ক আরোপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতীয় বস্ত্র ও পোশাক শিল্প খাতের ব্যবসায়ীরাও এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান অশ্বিন চন্দ্রন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে ভারত শুল্ক ছাড়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দেশটির রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেও এর আইনি বৈধতা নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই বড় ধরনের বিতর্ক ও আইনি জটিলতা বিদ্যমান রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা