ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলা অব্যাহত, তেহরানকে রুবিওর হুঁশিয়ারি

ইরানের ওপর টানা দ্বাদশ দিনের মতো মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরান গোপনে আলোচনার জন্য ব্যাকুল হলেও তারা চুক্তিতে আসার মতো মানসিক প্রস্তুতি এখনও নেয়নি। রুবিওর ভাষ্যমতে, তেহরান যখনই কোনো চুক্তিতে সই করে, হয় তারা তা ভঙ্গ করে অথবা শর্ত পরিবর্তনের চেষ্টা চালায়। এ কারণে ইরানকে প্রতি রাতে আগের চেয়েও চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রুবিও অভিযোগ করেন, কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা পরিচালিত ইরান নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুযোগ নষ্ট করে সেই অর্থ হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর পেছনে ঢালছে। তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের শিল্প অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ ইতিমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন ঠেকাওয়াই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে রুবিও হুঁশিয়ারি দেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র কোনোভাবেই তাদের হাতে যেতে দেওয়া হবে না। ইরানের নীতি ‘চোখের বদলে চোখ’ হওয়ার বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ‘চোখের বদলে মাথা’ নীতিতে অটল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি এক ধরনের সম্মিলিত শাস্তি। বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা বেআইনি আদেশের দায়ভার এড়াতে পারেন না এবং ইরান এই অনাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটিও কার্যত ভেস্তে গেছে। সর্বশেষ হামলায় ইরাক সীমান্তে শালামচেহ যাত্রী টার্মিনালে অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর দায় চাপানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মাঠপর্যায়ের সংঘাতের পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি অবস্থানের এই ধারা অদূর ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%