পারস্য উপসাগরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা হরমোজ ও লোহিত সাগরে তীব্র উত্তেজনা

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান দ্বাদশ রজনীতে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, গত বুধবার দিবাগত রাতে তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

বিজ্ঞাপন

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, সালামচেহ এলাকায় মার্কিন হামলায় অন্তত ২ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, রামশির ও সিরিকসহ বেশ কয়েকটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং নৌ-বাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার দাবি করেছে। আইআরজিসি জানায়, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের গুদাম, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির থাড (টিএইচএএডি) রাডার সিস্টেম, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সি-র‍্যাম রাডার লক্ষ্য করেও তারা বিধ্বংসী অভিযান চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে সংঘাতের তীব্রতা এখন বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে যে, হরমুজ প্রণালী এখন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মার্কিন ‘দুষ্কর্ম’ অব্যাহত থাকলে এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। কোনো জাহাজ ইরানের অনুমতি ছাড়া এই পথ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের এসপিএ সংবাদ সংস্থার ভাষ্যমতে, এনসেলিয়া নামের একটি ট্যাঙ্কারে আঘাতের ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেছে। হুতিরা জানিয়েছে, ক্রুজ ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা তাদের ভাষায় ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের জবাব হিসেবে ‘অবরোধের বিপরীতে অবরোধ’ কার্যক্রমের অংশ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%