নতুন অর্থবছরে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে জোর

অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পথপরিক্রমা পেরিয়ে নতুন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিদায়ী বছরের অসম্পূর্ণ কাজগুলো আর নতুন অর্থবছরের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার মধ্যবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো এক মিশ্র পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরাই এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে এক প্রকার শ্লথগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ২০২১-২২ থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেলেও, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ স্পষ্ট। সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীল খাতে বড় ধরনের গতি সঞ্চার করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

গত চার বছর ধরে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকলেও, গত দুই মাসে তা ৯ শতাংশের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বর্তমান বাস্তবতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রানীতির সঠিক প্রয়োগের ওপরই এই লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।

রপ্তানি আয়ের চিত্রটি কিছুটা হতাশাজনক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই শতাংশ কম। এর আগে একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি ডলার। সারা বছরের হিসাবে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৪৭৭ কোটি ডলার রপ্তানি হলেও বাকি মাসগুলোতে আয়ের প্রবাহ ছিল উঠানামা পূর্ণ, যেখানে বছরের অধিকাংশ সময় রপ্তানি আয় ৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে অবস্থান করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী দুই বছরে প্রবাসী আয়ে অভাবনীয় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে, যার ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত মোট ৩৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এই আয়ের পরিমাণ ১৬ শতাংশ বেশি, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সম্পর্কিত- অর্থনীতি
0%
0%
0%
0%