ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে মানিলায় রুবীয় ও লাভরভের বৈঠক, রাজনৈতিক সমাধানের বার্তা রাশিয়ার

ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠকের পার্শ্ববর্তী আলোচনায় বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকরা। দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনের উপায় এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সের্গেই লাভরভ ইউক্রেন সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি মস্কোর আগ্রহের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে যে প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, রাশিয়া সেগুলোর প্রতি এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে কিয়েভ সরকারকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখার তীব্র সমালোচনা করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। লাভরভের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্থিতিশীল নীতি রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার প্রচেষ্টারই অংশ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই আলোচনার বিষয়ে খুব অল্প তথ্যই প্রকাশ করা হয়েছে। একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, দুই নেতা কেবল যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এর আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অন্যান্য বৈশ্বিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে আগ্রহী এবং সুযোগ থাকলে যুদ্ধ অবসানে ভূমিকা রাখতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে, তিনি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সাথে আলোচনা করেছেন, যার লক্ষ্য হলো স্থবির হয়ে পড়া কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে পুনরায় সচল করা। বর্তমানে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। গত জুনে কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%