ইতালিতে পুলিশি হেফাজতে মরক্কোর নাগরিকের মৃত্যু, সত্য উদঘাটনে মেলোনির নির্দেশ

ইতালির বোলোনিয়া শহরে পুলিশের হেফাজতে আবদের রহিম ফাকির নামের এক মরক্কো নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই মৃত্যুকে ঘিরে রাজপথে নেমে আসা বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মরক্কো সরকার ইতালির কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার, যখন প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দুই পুলিশ সদস্য ৪২ বছর বয়সী ফাকিরকে দীর্ঘ সময় ধরে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় ফাকির মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই মৃত্যুকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, ঘটনার পেছনে কারো গাফিলতি থাকলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভের নামে সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার বোলোনিয়ার রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। এই বিক্ষোভের সময় ব্যাপক সংঘর্ষে ৫৪ জন পুলিশ সদস্য এবং ১১ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইতালির কৌঁসুলিরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, যারা ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতালির রোম কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। নিহত ফাকিরের পরিবারও প্রতিশোধের চেয়ে ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিচ্ছে। ফাকিরের ভাইঝি ইয়োসরা ফাকির এক সমাবেশে জানান, তারা ঘৃণা বা প্রতিহিংসা চান না, কেবল প্রিয়জনের মৃত্যুর পেছনের সত্যটুকু জানতে চান।

এই ঘটনাটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনার সাথে তুলনা করা হচ্ছে। ফ্লয়েডের মতোই মাটিতে চেপে ধরার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%