কিউবাকে বিশ্বজুড়ে মার্কিনবিরোধী জোটের হোতা আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ

কিউবাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা ‘মার্কিন-বিরোধী জোটের’ মূল চালিকাশক্তি হাভানা—এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ১০০ পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে কিউবার বর্তমান কমিউনিস্ট সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য আদর্শিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের আমলের পুরনো ভাষাকে আশ্রয় করে প্রণীত এই নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, কিউবা ভিতর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।
প্রতিবেদনটিতে কিউবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের গভীর যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে ‘ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টস অফ আমেরিকা’ বা ডিএসএ-কে সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও প্রশাসন স্বীকার করেছে যে ডিএসএ কিউবার সরাসরি কোনো সহযোগী নয়, তবুও তাদের মতাদর্শ কিউবার স্বার্থের সাথে মিলে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এছাড়া যুদ্ধবিরোধী সংগঠন ‘কোড পিংক’ এবং কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের সাথে হাভানার গোপন আঁতাত রয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন অধিকারকর্মীরা। কোড পিংকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিডিয়া বেঞ্জামিন আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই পরিস্থিতিকে পঞ্চাশের দশকের ‘ম্যাকার্থিবাদ’-এর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করতে এবং কিউবার ওপর চাপ প্রয়োগের অজুহাত খুঁজতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে। একে তিনি এক ধরনের ‘ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের এমেরিটাস অধ্যাপক আন্তোনি কাপসিয়া এই প্রতিবেদনের অসারতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, কিউবার মতো একটি দরিদ্র ও সংকটাপন্ন দেশ যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক বা রাজনৈতিক হুমকি হতে পারে, তা কেবল হাস্যকরই নয়, বরং বিপজ্জনক। কাপসিয়া মনে করেন, কিউবার ওপর আরোপিত মানবিক সংকটের বিষয়টি আড়াল করতে এবং ভবিষ্যতে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ বা আগ্রাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কাল্পনিক হুমকির বয়ান তৈরি করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নথিতে কিউবাকে মস্কো, বেইজিং এবং তেহরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার মিলনস্থল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, কিউবার কৌশলগত গুরুত্ব কমে যাওয়া এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় কোনো সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা কম। তা সত্ত্বেও, রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য কার্লোস হিমেনেজসহ ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকরা এই প্রতিবেদনকে কিউবায় শাসন পরিবর্তনের ডাক হিসেবে প্রচার করছেন, যা অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা