ভারতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের জেরে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা গ্রেপ্তার

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে দেশটির শীর্ষ বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলমান ‘ককরোচ’ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে সংস্কার এবং সরকারি জবাবদিহিতার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর দমনপীড়নের প্রতিবাদে এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের পূর্বে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার ভারতের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও বলপূর্বক আটক করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, গ্রেপ্তারের সময় রাহুল গান্ধী আহত হয়েছেন।
দিল্লিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় হাজার হাজার আন্দোলনকারীর ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে। পুলিশের এই বর্বরোচিত আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দিল্লি পুলিশের তথ্যমতে, সোমবারের সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১৮ সদস্য এবং অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থীসহ ১৮০ জন আহত হয়েছেন।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ঘোষণা দিয়েছেন যে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। মাত্র দুই মাস আগে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকার জবাবদিহিতা এড়াতে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি নয়।
এদিকে জন্তর মন্তরে ভারী পুলিশি পাহারার মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। আন্দোলনরত ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সোনা বিস্ত জানান, সরকারের এই দমনপীড়ন তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা