দক্ষিণ লেবাননে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন শুরু, নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী

ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত চুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের তিনটি গ্রামে পাইলট প্রকল্প শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, ভ্রুন, সারিফা ও জাওতার আল-গারবিয়া গ্রামগুলোকে এই পরীক্ষামূলক জোনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে দখলকৃত এলাকা থেকে সরে আসবে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী সেই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
সপ্তাহখানেক আগে রোমে অনুষ্ঠিত ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সফল পরিণতি হিসেবে এই মাইলফলককে দেখছে ওয়াশিংটন। গত ২৬ জুন ছয় দফার সরাসরি আলোচনার পর এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল উভয় পক্ষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আশাব্যঞ্জক বার্তা দেওয়া হলেও, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও সংশয় রয়ে গেছে।
লেবাননের জাওতার আল-গারবিয়ার স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো শহরতলী থেকে পুরোপুরি সরে না যাওয়ায় সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি। ভ্রুন ও সারিফা গ্রামের মেয়রদের ভাষ্যমতে, বাস্তবে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং চুক্তির সুফল এখনো দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনারা কতদিনের মধ্যে দখলকৃত অঞ্চল থেকে সরে আসবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আস্থার সংকট প্রকট হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেল আবিব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহর হাতে অস্ত্র থাকা পর্যন্ত তারা লেবাননের অভ্যন্তরে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ‘নিরাপত্তা বলয়’ বজায় রাখবে। অন্যদিকে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরায়েলের নিঃশর্ত ও অবিলম্বে লেবানন ত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে।
চলমান এই সংঘাতের ভয়াবহতায় লেবাননের জনজীবন বিপর্যস্ত। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪,৩২৮ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট হামলায় ৩২ জন ইসরায়েলি সেনা ও চারজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে এখনো যুদ্ধবিরতির চেয়ে সংঘাতের দামামা বেশি জোরালো।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা