ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে তেহরানের পাল্টা আঘাত

জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনার জেরে ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা অষ্টম দিনের মতো দেশটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ভোর ০৩:৩০ মিনিটে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের আস্তানাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্কিন হামলার ফলে দক্ষিণ ইরানের সাথে দেশটির মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অভিযানে অসংখ্য সেতু, রেলপথ, সুড়ঙ্গ এবং সড়ক ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন দ্বীপ কিশ, সিড়িক এবং বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তাসনিম নিউজের বরাতে জানা যায়, খুজেস্তান প্রদেশের শাদাগান শহরের উপকণ্ঠসহ কেশম দ্বীপের আশেপাশে অন্তত ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যখন কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্পের গোলাবারুদ ডিপো এবং আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির রাডারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। একইসাথে বাহরাইনের রাজধানী মানামাসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারককে ‘মূল্যহীন ও অবৈধ’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের খতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা