লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস ২০টি বিদ্যালয়, অন্ধকারে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের মুখে শিক্ষা ব্যবস্থা এক চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। লেবাননের শিক্ষামন্ত্রী রিমা কারামি জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং আরও ১০০টিরও বেশি স্কুল বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী স্কুলগুলো থেকে মূল্যবান সামগ্রী লুট করার পর বিস্ফোরক ব্যবহার করে সেগুলোকে ভস্মীভূত করেছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নগ্ন হামলা চলছে, অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্কুলগুলোকে সুরক্ষিত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ করতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামরিক অভিযানের আওতামুক্ত রাখতে বিশ্ববাসীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সীমান্ত সংঘাত চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর তথ্যমতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের ফলে লেবাননে প্রায় ৫ লাখ শিশু শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনছে।
লেবাননের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকে চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ১২ হাজার ২২৩ জন আহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই প্রাণহানির তালিকায় অন্তত ২৫০ জন শিশু রয়েছে এবং দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ। এছাড়া জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননে ১১ হাজারেরও বেশি ভবন মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যদিও গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য অধিকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার। তবে সেই চুক্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি এবং শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি যুক্ত করায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও শিক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষা এখনো অনিশ্চয়তার দোলাচলে বন্দি হয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা