গাজায় জানাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ১৪

গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায়, যেখানে একটি জানাজা মিছিলে ড্রোন হামলার ঘটনায় আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। আল-আওদা হাসপাতালের তথ্যমতে, এ হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের সামনে যখন শোকসন্তপ্ত মানুষ জড়ো হয়ে জানাজা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ড্রোন থেকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গত অক্টোবর মাস থেকে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা বা একলেড-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা ও সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে ৪০টিরও বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে সর্বোচ্চ। গাজা সিটি থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানান, আকাশজুড়ে ড্রোনগুলোর একটানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে এবং যুদ্ধের ফলে অবশিষ্ট অবকাঠামোও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

গাজার অন্যান্য অঞ্চলেও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরে আবু তাম্মাম স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোনের হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আজ-জাওয়াইদা শহরে আরও একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নুসেইরাত শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়স্থলে গোলার আঘাতে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সাথে গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্টে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। তাদের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যার অর্থ প্রতিদিন গড়ে অন্তত একটি শিশুর মৃত্যু ঘটছে। যুদ্ধের এই রূঢ় বাস্তবতা এবং ক্রমাগত হামলার কারণে গাজাবাসীর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিধ্বস্ত জনপদ পুনর্নির্মাণ বা শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%