ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় চারজন নিহত ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মিকোলাইভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় বিদেশি জাহাজের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। একই দিনে খেরসন ও ওদেসায় পৃথক রুশ হামলায় আরও অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শস্য রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্রতর হওয়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলিদের তথ্যমতে, শুক্রবার মিকোলাইভের বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার চালানো ড্রোন হামলায় বিদেশি পতাকাবাহী তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে থাকা দুই ইউক্রেনীয় নাগরিক নিহত হন। একই সময় খেরসনে ড্রোন হামলায় এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। এছাড়া ইউক্রেনের প্রধান সমুদ্রবন্দর ওদেসাতে রুশ হামলায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ওদেসা সিটি মিলিটারি প্রশাসনের প্রধান সেরহি লিসাক এক বার্তায় অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার আগ্রাসী বাহিনী ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ত্রাস সৃষ্টি করছে।
কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় রাজধানী কিয়েভসহ খারকিভ, তের্নোপিল, মিকোলাইভ, চেরনিভৎসি ও লুৎস্ক শহরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ মানুষ। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ফেদোরভকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, আধুনিক সামরিক কৌশল প্রণয়নে ফেদোরভের ভূমিকা ছিল অনন্য।
ফেদোরভকে অপসারণের পর ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যকার গভীর বিভেদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর তিনি সামরিক প্রধান ওলেক্সান্দ্র সিরস্কির কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং বর্তমান নেতৃত্বে ইউক্রেনের জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর প্রধান ইয়েভজেনি খামারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকোকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই উভয় পক্ষ বড় ধরনের দাবি করে আসছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে তারা ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ২৪টি জাহাজ লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রভদি জানিয়েছেন, শুক্রবার কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দুটি ট্যাংকারসহ ১২টি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলভিত্তিক একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় বাহিনী সফল হামলা চালিয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা