তারাতলা বিপর্যয়ে ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তার

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মান একটি গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় ভয়াবহ প্রাণহানির তদন্তে বড় ধরনের সাফল্য পেল বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে প্রশাসনিক গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে ভারতর কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। এই গ্রেপ্তারির ঘটনা তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তে নতুন মোড় তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য যে, তারাতলায় নির্মাণাধীন ভবন ধসের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। নির্মাণস্থলে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রকল্পটির নথিপত্রে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক।

বিধানসভার অধিবেশনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে কালীচরণকে কলকাতা পুরসভায় নিয়ে আসা হয়েছিল এবং শহরের অধিকাংশ বড় নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব খাটাতেন। তিনি আরও বলেন, কালীচরণকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে। বিরোধী দলনেতার এমন মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিট তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায়।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি ২০০৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করলেও, প্রশিক্ষণের মাঝপথে চাকরি ছেড়ে তিনি আগের দফতরে ফিরে আসেন। ২০১০ সালে কলকাতা পুরসভায় যোগদানের পর থেকেই ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার পরিচিতি তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

মেয়র হওয়ার পর ফিরহাদ হাকিম তাকে ওএসডি হিসেবে নিয়োগ করলে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ও নির্মাণ সংক্রান্ত নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কালীচরণের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার অনুমতি ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নড়ত না, এমনকি মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও অনেক ক্ষেত্রে তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করত। তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা বড় কোনো চক্রের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে। আগামী কয়েক দিনের তদন্ত প্রক্রিয়া এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%