লেবাননের নিরাপত্তা শূন্যতা পূরণে ইউরোপীয় বাহিনীর মোতায়েনের আহ্বান জার্মানির

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী বা ইউনিফিলের মেয়াদ চলতি বছরের শেষভাগে শেষ হতে চলায় সেখানে এক ভয়াবহ ‘নিরাপত্তা শূন্যতা’ সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জার্মানি। এই সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি নতুন বাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বার্লিন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং হিজবুল্লাহর পুনরায় সশস্ত্র উপস্থিতি ঠেকাতে ইউরোপীয় নেতৃত্বের এই মিশন অপরিহার্য।

বিজ্ঞাপন

রেডাকশনসনেটওয়ার্ক ডয়েচল্যান্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর দখলকৃত এলাকা থেকে সরে আসা এবং অঞ্চলটিতে পুনরায় সহিংসতা রোধ করাই এই প্রস্তাবিত মিশনের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা ইউনিফিলের ব্যর্থতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল সমালোচনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত বছর এই মিশনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৭৮ সালে প্রথমবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

তবে সামরিক বিশ্লেষক ও ব্রাসেলসের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন কোনো ইউরোপীয় মিশন ইউনিফিলের মতো কেবল শান্তি রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং লেবাননের জাতীয় সামরিক বাহিনীকে সক্ষম করে তোলা এবং তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে নতুন মিশনের মূল কৌশলের অংশ। লেবানন সরকারও এই ইউরোপীয় মিশনের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার গতি প্রকৃতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বুধবার রোমে ষষ্ঠ দফার আলোচনার পর উভয় পক্ষ দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘পাইলট জোন’ তৈরির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে আসার বিনিময়ে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্ত নিয়ে জোর আলোচনা চলছে, যা এই অঞ্চলের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার নতুন সমীকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%