বসিরহাটে মামি-ভাগ্নের রহস্যজনক মৃত্যু, খুনের অভিযোগ পরিবারের

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে মামি ও ভাগ্নের অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক জোড়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে সাঁইপালা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে দেবাশিস মণ্ডল নামের ৩২ বছর বয়সী এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ এবং বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন রেললাইন থেকে রুনু মণ্ডল নামের ৩৩ বছর বয়সী এক নারীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুনু মণ্ডলের সঙ্গে দেবাশিসের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারে তীব্র অশান্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় এক মাস আগে তারা দুজনে বাড়ি ছেড়ে বসিরহাটের সাঁইপালায় একটি ভাড়া বাড়িতে সংসার পাতেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা সেখানে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়েই বসবাস করছিলেন।
নিহত দেবাশিসের পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই দেবাশিস মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়েছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে রুনু মণ্ডলের ফোন থেকে দেবাশিসের বাবার কাছে একটি কল আসে। অভিযোগ, ওই ফোন কলে রুনু মণ্ডল জানান যে তিনি দেবাশিসকে হত্যা করেছেন এবং নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এদিকে, পুলিশি প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যার ঘটনা, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। বসিরহাট থানার পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে এবং রহস্য উন্মোচনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত রুনু মণ্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস