যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে কঠোর পরিবর্তন বিদেশী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদের ওপর কঠোর সময়সীমা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলে আসা উন্মুক্ত ভিসানীতি বাতিল করে নতুন এই নিয়ম প্রবর্তনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ কঠোর হলো। নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে এখন থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের পর ভিসার মেয়াদ বাড়াতে হলে আবেদনকারীদের নতুন করে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস কর্তৃক প্রকাশিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণত চার বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন এবং চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৯০ দিনে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে চাইলে তাদের হয় বর্ধিতকরণের জন্য আবেদন করতে হবে, নতুবা দেশ ত্যাগ করে পুনরায় ভিসার আবেদন করতে হবে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়ম আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, এটি তারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডিএইচএস-এর দাবি, অতীত প্রশাসনগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং করদাতাদের অর্থের অপচয় ঘটিয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ করা প্রায় ২,১০০ জন ব্যক্তি এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে মার্কিন ভূখণ্ডে তাদের ছাত্রত্ব বজায় রেখেছিলেন। ক্রমবর্ধমান এই অভিবাসী সংখ্যা নজরদারিতে রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৮ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে প্রায় ৫ লাখ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং ৩৭,৩০০ জন বিদেশি সাংবাদিক দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি বা গবেষণার বিষয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ভিসা নবায়নের বর্ধিত খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এছাড়া এর আগে রাজনৈতিক সক্রিয়তার অভিযোগে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলসহ মোট ১ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
