নির্বাচন নিয়ে রহস্যময় ভাষণের প্রস্তুতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিরল প্রাইমটাইম ভাষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তার এই বক্তৃতায় ২০২০ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ‘গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্যের অবতারণা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতেই ট্রাম্প এই চমকপ্রদ উদ্যোগ নিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন ইস্টার্ন টাইম রাত ৯টায় প্রেসিডেন্ট তার ভাষণ প্রদান করবেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সরাসরি কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া একটি দেশের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে। সূত্র জানিয়েছে, এই ভাষণে ট্রাম্প এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করতে পারেন যা ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ যন্ত্রের দুর্বলতা বা বিদেশি সাইবার হস্তক্ষেপের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে প্রেসিডেন্টের এই দাবি নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক দল এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেনেটর মার্ক ওয়ার্নার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই ট্রাম্প ভিত্তিহীন অভিযোগের আশ্রয় নিচ্ছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, ট্রাম্প এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ফেডারেল হস্তক্ষেপ করার পথ সুগম করতে চাইছেন।
এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির অসংখ্য অভিযোগ তুললেও তার সপক্ষে কখনোই কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি ট্রাম্প। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বা সিআইএসএ ২০২০ সালের নির্বাচনকে দেশটির ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট বর্তমানে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এর মতো আইনের মাধ্যমে ভোটার যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ এবং মেইল-ইন ব্যালটের ব্যবহার সীমিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
জনমত জরিপ সংস্থা ইউগভ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যক্রমে ৫৭ শতাংশেরও বেশি ভোটার অসন্তুষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, জনপ্রিয়তা ধরে রাখা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজ দলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার লক্ষ্যেই তিনি এই বিতর্কিত কৌশলের পথ বেছে নিয়েছেন। ভাষণের সময় বড় ধরনের মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো এটি সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী শিবিরে প্রবল আপত্তি রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
