যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন অভিযানের জেরে প্রাণহানি বাড়ায় তীব্র উদ্বেগ ও বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার পর থেকে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক দপ্তরের (আইসিই) অভিযানে কিংবা তাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ গত সোমবার মেইনের বিডিফোর্ড শহরে ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছেন আইসিই’র একজন কর্মকর্তা। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা আইসিই’র কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরার প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন। ঘটনার বিবরণে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, এক ব্যক্তির খোঁজে অভিযান চালানোর সময় একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। সে সময় ‘জননিরাপত্তা হুমকির মুখে’ বিবেচনায় এক কর্মকর্তা গুলি চালান। তবে মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানিয়েছেন, ওই কর্মকর্তাদের শরীরে কোনো বডি ক্যামেরা ছিল না এবং তারা মূলত অন্য একজনকে গ্রেপ্তারের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।

আইসিই’র আগ্রাসী অভিযানের ধরন এখন মার্কিন সমাজজুড়ে ভীতির সঞ্চার করেছে। মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্ট, চিহ্নিত চিহ্নহীন গাড়ির ব্যবহার এবং কর্মস্থলে বড় ধরনের অভিযানের কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছে। মিনেসোটাসহ বিভিন্ন স্থানে ফেডারেল এজেন্টদের সামরিক ধাঁচের তৎপরতা এবং জনসাধারণের ওপর নজরদারিকে সমালোচকরা অনেকটা স্বৈরাচারী আচরণের সঙ্গে তুলনা করছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, ট্রাম্পের এই মেয়াদে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসের শেষ দিকে মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই। একই সময়ে অভিবাসন ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ৫০০ দিনে ডিটেনশন সেন্টারে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা বিগত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, মেইনের অ্যাটর্নি জেনারেল ও এফবিআই ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে বিডিফোর্ডের এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং আইসিই বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সীমান্ত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা হ্রাস এবং বলপ্রয়োগের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জননিরাপত্তার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%