সিরিয়ার ভোটাধিকার পুনর্বহাল করল রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংস্থা

সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের ইতিবাচক উদ্যোগ ও রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত অমিমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে দৃশ্যমান অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ভোটাধিকার পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধ সংস্থা বা ওপিসিডব্লিউ। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
২০২১ সালে রাসায়নিক অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে ব্যর্থতা এবং গৃহযুদ্ধের সময় বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারের দায়ে সিরিয়ার ভোটাধিকার স্থগিত করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে দীর্ঘদিনের শাসক আসাদের পতনের পর নতুন কর্তৃপক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের দায়বদ্ধতা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। সংস্থাটির কারিগরি সচিবালয়ের সঙ্গে নতুন সরকারের গঠনমূলক সহযোগিতা ও সমন্বয় এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ইতিমধ্যে রাসায়নিক অস্ত্র শনাক্তকরণ ও অবশিষ্ট মজুদ ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ওপিসিডব্লিউ-এর মহাপরিচালক ফার্নান্দো আরিয়াস জানান, নতুন প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সিরিয়ার সহযোগিতামূলক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সিরিয়া ২০১৩ সালে ওপিসিডব্লিউতে যোগ দেয় এবং রাশিয়ার ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রস্তাবনার আওতায় দেশটির প্রায় ১ হাজার টন বিষাক্ত রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দেয়। দামেস্কের উপকণ্ঠে ঘৌটায় ভয়াবহ রাসায়নিক হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ওই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন আসাদ সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, সেই হামলায় ৪২৬ জন শিশুসহ অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিল, যার দায়ভার তৎকালীন আসাদ সরকার অস্বীকার করে আসছিল।
সংস্থাটির তথ্য মতে, আসাদ সরকারের আমলে রাসায়নিক অস্ত্রের প্রকৃত মজুদ গোপন রাখা এবং পরিদর্শকদের বিভ্রান্ত করার মতো গুরুতর অনিয়ম লক্ষ্য করা গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকার পর নতুন সরকারের এই স্বচ্ছ নীতি ও আন্তরিকতা সিরিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা