AdvertisementAdvertisement

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ৮ আহত ১২

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। গাজা সিটির নিকটবর্তী একটি স্কুল এবং খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবু লক্ষ্য করে চালানো হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়ে চালানো হামলায় দশ বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ছয় বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। এছাড়া শহরের পশ্চিমাঞ্চলে একটি গাড়িতে চালানো পৃথক বিমান হামলায় আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা সিটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনার কথা স্বীকার করলেও সাধারণ মানুষের হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও কার্যত গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সামগ্রিক যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৩ হাজার ১১০ জনে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৯ জনে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত সীমানার অন্তত ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অবৈধ সম্প্রসারণ গাজায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা, অন্যদিকে মানবিক বিপর্যয় গাজাবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ১৩০টিরও বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ জন জলবসন্তের রোগী শনাক্ত হয়েছে। চরম জনাকীর্ণতা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে এই সংক্রামক ব্যাধি এখন নতুন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%