কনজারভেটিভ কর্মী চার্লি কার্ক হত্যা মামলা: বিচার শুরুর প্রশ্নে শুনানি শুরু ইউটায়

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত টাইলার রবিনসনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, তা নির্ধারণে শুনানি শুরু হয়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রাথমিক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বিচারককে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, রবিনসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় আদালতে এখন সাজ সাজ রব পড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন নিহত চার্লি কার্কের স্ত্রী এরিকা কার্ক ও তার বাবা-মা। শুনানির প্রথম দিনে আসামি টাইলার রবিনসনকে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় আইনজীবীদের মাঝখানে বসে থাকতে দেখা যায়। আদালতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং কট্টর ডানপন্থী কর্মী জ্যাক পসোবিয়েকও উপস্থিত ছিলেন। রবিনসন এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন করেননি এবং তার আইনজীবীরা কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন। তবে আসামিপক্ষ রবিনসনের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা বাতিলের আবেদন করলেও বিচারক তা নাকচ করে দিয়েছেন। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে রবিনসনের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।

শুনানির শুরুতে ইউটা ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিস ব্যাগলির জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ঘটনার দিন ক্যাম্পাসে চার্লি কার্ক যখন জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন তাকে গুলি করা হয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। ব্যাগলির ভাষ্যমতে, ঘটনার পর পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের ছাদে তিনি এমন কিছু ছাপ দেখেছিলেন, যা দেখে মনে হয়েছে সেখানে কোনো স্নাইপার অবস্থান নিয়েছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ক্যাথরিন নেস্টার পাল্টা প্রশ্ন করলে ব্যাগলি স্বীকার করেন যে, ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি খালি পিস্তলের হোলস্টারের ফরেনসিক পরীক্ষা বা আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষ মামলার নথিতে রবিনসনের হাতে লেখা একটি স্বীকারোক্তিমূলক চিরকুট, অপরাধ স্বীকার করে পাঠানো মোবাইল খুদে বার্তা এবং আসামির সঙ্গীর ভিডিও সাক্ষ্য উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ব্যালেস্টিক পরীক্ষার অস্পষ্টতাকে পুঁজি করে তাদের যুক্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, কার্কের শরীর থেকে উদ্ধার হওয়া বুলেটের টুকরোর সাথে জব্দ করা আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো নিশ্চিত সংযোগ মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, রক্ষণশীল ছাত্র সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ক তরুণ ভোটারদের ট্রাম্পের পক্ষে টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার জন্য ‘উগ্র বামপন্থী’ আদর্শকে দায়ী করেন এবং উদারপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আইন অনুযায়ী, মূল বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে রাষ্ট্রপক্ষকে বিচারকের কাছে এটি প্রমাণ করতে হবে যে, রবিনসনের বিরুদ্ধেই হত্যাকাণ্ডের যুক্তিযুক্ত অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে জুরি বোর্ডের সামনে অপরাধের বিষয়টি ‘সন্দেহাতীতভাবে’ প্রমাণ করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%