রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ওআইসির জোরালো সমর্থনের আশ্বাস নবনির্বাচিত মহাসচিবের

সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সংস্থাটির দৃঢ় সমর্থন ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ওআইসিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদ নবনির্বাচিত মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দনপত্র হস্তান্তরকালে এই আশ্বাস দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে ওআইসি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, যা সবার জন্যই মারাত্মক ভোগান্তি বয়ে আনবে। বৈঠকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং নতুন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এসময় ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশটির উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নতুন গতি পাবে।

বাংলাদেশের গাজীপুরে অবস্থিত ওআইসির প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ভূমিকা স্মরণ করে মহাসচিব জানান, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইইউটির গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানান, সফরসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ তাঁর পছন্দের তালিকায় শীর্ষ সারিতে রয়েছে।

বৈঠকে উভয়পক্ষ এই বিষয়ে একমত হন যে, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ভিন্নতা থাকায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ, স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আতিথেয়তা এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশগুলো লাভজনক ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশের জনগণ ও নতুন নেতৃত্বের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের জন্য মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাবেদ বলেন, আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক যৌথ ইস্যুতে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

০%
০%
০%
০%