যুক্তরাজ্যে জোরপূর্বক দত্তক গ্রহণ: ইতিহাসের কলঙ্ক স্বীকার করে কিয়ার স্টারমারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রার্থনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অবিবাহিত মায়েদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সন্তান কেড়ে নেওয়ার মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার এবং বিভিন্ন খ্রিস্টান চার্চের যোগসাজশে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার শিশুকে তাদের জন্মদাত্রী মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই ঘটনাকে দেশটির ইতিহাসের জন্য এক গভীর কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে স্টারমার বলেন, রাষ্ট্রের এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার জন্য তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। তিনি স্বীকার করেন যে, তৎকালীন সময়ে সরকার মা, শিশু এবং পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। এর আগে চার্চ অব ইংল্যান্ডও তাদের পরিচালিত ‘মাদার অ্যান্ড বেবি হোমগুলোতে’ নারীদের ওপর চালানো নির্যাতনের দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
সংসদীয় কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ওই সময় মায়েদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হতো। অনেক ক্ষেত্রে প্রসব যন্ত্রণার সময় নারীদের শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হতো না। অনেক মা বর্ণনা করেছেন, কীভাবে তাদের সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই কান্নারত অবস্থায় তাদের কাছ থেকে নবজাতককে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের অনেকেই নারীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করতেন এবং তাদের মানসিক হেনস্তা করতেন।
ভুক্তভোগীদের সহায়তায় সরকার প্রায় ৪০ লাখ পাউন্ড বা ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ মূলত দত্তক নেওয়ার পুরনো রেকর্ড খুঁজে বের করা, পরিবারগুলোর পুনর্মিলনে সহায়তা এবং এই অমানবিক প্রথার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে গবেষণায় ব্যয় করা হবে। এর আগে ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং ২০২১ সালে আয়ারল্যান্ড একই ধরনের জোরপূর্বক দত্তক গ্রহণের ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিল।
পার্লামেন্টারি কমিটির চার বছর আগের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার অবশেষে এই দায় স্বীকার করে নিল। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, এই লজ্জার দায় রাষ্ট্রের এবং সেই সময় দায়িত্বশীল পদে থাকা সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের। ধর্মের নামে পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে যে পদ্ধতিগত নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা ব্রিটিশ ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা