ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বার্নহ্যামের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি ও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে অনীহা নিয়ে বিতর্ক

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহাম দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন। ম্যানচেস্টারে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সভায় তিনি যুক্তরাজ্যের অঞ্চলগুলোর ওপর অধিকতর স্বায়ত্তশাসন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার লক্ষ্যে নিজের রূপকল্প তুলে ধরলেও, অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি না হওয়ায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন লেবার পার্টির এই শীর্ষ নেতা।
সোমবার আয়োজিত ওই সভায় বার্নহাম দাবি করেন, উপর থেকে নির্দেশ দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, বরং তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রকৃত উন্নয়ন বিকশিত হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ নয় বছর ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহাম প্রতিটি পোস্টকোডে সমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। লন্ডনের ওপর কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ও সম্পদের অসম বণ্টন কমিয়ে তিনি বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফেরানোর স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে বার্নহাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ১৮ জুন উপ-নির্বাচনে জয়ের পর ২২ জুন পার্লামেন্টে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। ওই একই দিনে কিয়ার স্টারমার তার উত্তরসূরি নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে বার্নহামের সামনে এখন মন্থর অর্থনীতি, ভেঙে পড়া জনসেবা এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।
একই সাথে রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক সম্পর্কের সমীকরণ মেলাতে যুক্তরাজ্যকে সামরিক বাজেট বৃদ্ধির চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের আগেই সরকারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশের কথা রয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই এই পরিকল্পনার অঙ্গীকারগুলো মেনে চলতে হবে, পাশাপাশি ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা না চাপানোর চ্যালেঞ্জটিও বজায় রাখতে হবে।
তবে বার্নহামের ভাষণের পর প্রশ্নের সুযোগ না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক। তিনি অভিযোগ করেন, বার্নহামের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই এবং দায়িত্ব এড়িয়ে মেয়রদের ওপর দায় চাপানোর কৌশল গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজেকে প্রমাণের জন্য বার্নহামকে দ্রুত তার এই গোপনীয়তা ও কৌশলের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছ জবাবদিহিতার পথে হাঁটতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা