যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী বন্দিশালায় মৃত্যু বেড়ে উদ্বেগ প্রকাশ জাতিসংঘের

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বন্দিশিবিরগুলোতে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির বন্দিশিবিরগুলোতে ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যা অভিবাসন কেন্দ্রগুলোর অস্বচ্ছতা এবং অব্যবস্থাপনার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

বিজ্ঞাপন

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই হেফাজতে মৃত্যুর হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই হার জো বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় প্রায় চার গুণ এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি। চলতি বছরের ৪ জুন লুইজিয়ানার একটি কেন্দ্রে মামুকা আর্তমেলাদজে নামের এক জর্জিয়ান নাগরিকের মৃত্যুর পর নিহতের সংখ্যা ১৯-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছর মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৩ এবং ২০২৪ সালে তা ছিল ১১ জন।

বন্দিশিবিরগুলোতে নিয়মতান্ত্রিক অবহেলা, অমানবিক পরিবেশ এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ব্যাপকহারে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বন্দিশিবিরের নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু কেন্দ্র বেসরকারি ঠিকাদারদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন যে, হেফাজতে বলপ্রয়োগের অভিযোগ এবং বন্দিদের নিঃসঙ্গ কারাবাসের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে নিঃসঙ্গ কারাবাসকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নির্যাতন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বন্দিদের আত্মহত্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং অনেক মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%