হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জোরালো হচ্ছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র মৈত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগদানের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন সফরকালে তিনি এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। গত সপ্তাহে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করা লিন্ডসে গ্রাহামকে ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি হবে নেতানিয়াহুর সপ্তম হোয়াইট হাউস সফর, যা মূলত দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতাকে নির্দেশ করছে।

বিজ্ঞাপন

এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত ১৩ রাত ধরে ইরানি ভূখণ্ডে তারা ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও এই অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যার জেরে গত সপ্তাহে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে তিন সেনা নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন তার সামরিক সক্ষমতা ইসরায়েলের দিকে সরিয়ে নিচ্ছে, যা বৃহত্তর সংঘাতের পূর্বাভাস দিচ্ছে।

অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার মোট জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩,৩১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে প্রাণ হারিয়েছেন ১,১৮৫ জন। অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে; শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের হাতে অন্তত ৮৬ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আইনি বিতর্ক তুঙ্গে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রতি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মার্কিন ভূখণ্ডে থাকাকালীন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না। ট্রাম্প বরং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই ঘনিষ্ঠতা এমন সময়ে দৃশ্যমান হচ্ছে, যখন খোদ মার্কিন জনমত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেতে শুরু করেছে। গাজা যুদ্ধের কারণে মার্কিন সমাজে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি আগের তুলনায় অনেকটাই তলানিতে ঠেকেছে। এমনকি অনেক প্রভাবশালী ডানপন্থী ব্যক্তিত্বও অভিযোগ তুলেছেন যে, ইসরায়েল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে। পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতের কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান এখনো দিগন্তে দেখা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%