AdvertisementAdvertisement

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জেরে স্থগিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনা

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে ও বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতাকে আরও ঘনীভূত করেছে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হওয়ার পর তেহরান তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের জের ধরেই ইরান এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। অথচ বুধবারই উভয় দেশের মধ্যে ১৪ দফা সম্বলিত একটি সমঝোতা স্মারকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল ৬০ দিনের একটি মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া শুরু করা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার এবং পাকিস্তানের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বৈঠকটির নতুন কোনো তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং বুরগেনস্টকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কাতারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের মালিকানাধীন এই রিসোর্টটিতে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রত্যাশা ছিল বিশ্বনেতাদের।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং তাঁর সফরসঙ্গী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে অপেক্ষমাণ ছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে এই সফর বাতিল করা হয়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার লজিস্টিক বা কৌশলগত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি বলে ভ্যান্স ওয়াশিংটনেই অবস্থান করছেন। একই সাথে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তাঁর সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন বলে তাঁর মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রয়োজন না ফুরানো পর্যন্ত তাদের বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা বলয় থেকে সরে আসবে না। ইরান শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে যে, লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। সরাসরি পক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই সংঘাতের আঁচ শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলেও পড়ল।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%