বিশ্ব ব্যবস্থায় ভাঙন নিয়ে সতর্ক কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির মধ্যম শক্তির ঐক্যের ডাক

সুপারপাওয়ার বা পরাশক্তিগুলোর আধিপত্যের কবলে পড়ে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গ্রুপ অব সেভেন বা জি-সেভেন সম্মেলনের প্রাক্কালে ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে এক বক্তৃতায় তিনি বৈশ্বিক এই সংকটের কথা তুলে ধরেন। কার্নির মতে, বর্তমান বিশ্ব এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে পুরোনো ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
ডাবলিনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কার্নির সাথে উপস্থিত ছিলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন। কার্নি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব এখন কোনো সাধারণ উত্তরণ বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না, বরং একটি ভয়াবহ ভাঙনের সম্মুখীন। শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং কয়েক দশকের পুরনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা এখন হুমকির মুখে।
কার্নি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতিনির্ধারণী অবস্থানের দিকেই তার ইঙ্গিত। ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কানাডার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরি আচরণের বিষয়টি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ট্রাম্পের বারবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি এবং বাণিজ্যিক শুল্কের ব্যবহার দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উচ্চতায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে কার্নি ‘মধ্যম সারির শক্তি’ বা মিডল পাওয়ারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আয়ারল্যান্ড এবং কানাডা মিলে যদি নিজেদের সক্ষমতা বাড়ায়, তবে তারা একক কোনো পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি শক্তিশালী ব্লক তৈরি করতে সক্ষম হবে। কার্নি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ইউরোপ ও কানাডার মিলিত জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি এবং তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বাজেট চীনের চেয়েও দ্বিগুণ।
আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-সেভেন সম্মেলনে কার্নি ও ট্রাম্প উভয়ই উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামেও কার্নি একই ধরনের সুর চড়িয়েছিলেন, যার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন ট্রাম্প কানাডার সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, কানাডা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দয়ার ওপর টিকে আছে।
তবে সেই সমালোচনাকে উপেক্ষা করে কার্নি তার অবস্থানে অটল থেকেছেন। তিনি ইউরোপের সঙ্গে কানাডার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ইউরোপীয় পলিটিক্যাল কমিউনিটি ও সেফ ইনস্ট্রুমেন্টের মতো উদ্যোগগুলোতে যোগ দিয়েছেন। কার্নির স্বপ্ন হলো, প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপের সেতুবন্ধন তৈরি করে দেড়শ কোটিরও বেশি মানুষের একটি বৃহৎ বাণিজ্য জোট গড়ে তোলা, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় ভারসাম্য আনবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা