ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তনের আভাস

ইউরোপে ন্যাটো পরিচালিত সামরিক অভিযানে নিজস্ব বিমান ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউরোপীয় অঞ্চলে মোতায়েনকৃত যুদ্ধবিমান, মেরিটাইম সার্ভেইল্যান্স এয়ারক্রাফটসহ যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই নতুন কৌশল সামরিক জোটটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইউরোপের মিত্রদেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপে ন্যাটোর জন্য বরাদ্দকৃত এফ-১৬ ও এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ১৫০টি থেকে কমিয়ে ১০০টিতে নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের সংখ্যা ২৬টি থেকে ১৫টিতে হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ৮টি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োজিত দুটি বোম্বার টাস্কফোর্স গ্রুপের মধ্যে একটিকে সরিয়ে অন্য অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আমেরিকা অঞ্চলের দিকে মার্কিন সামরিক মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার বৃহত্তর কৌশল কাজ করছে। ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে এই সামরিক পুনর্বিন্যাস আটলান্টিক-অপার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন ইউরোপ রাশিয়া থেকে উদ্ভূত সামরিক হুমকি মোকাবিলায় বিশেষভাবে মনোযোগী।
তবে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, জোটটি এই পরিবর্তনের বিষয়ে অবগত এবং তারা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। হার্টের ভাষ্যমতে, এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একটি মিত্রের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে জোটের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া। একই সুর শোনা গেছে ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্স গ্রিনকেভিচের কণ্ঠে, যিনি বার্লিনে এক এয়ারশোতে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ড্রোন ও দূরপাল্লার মিসাইল সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।
ট্রাম্প এর আগে ন্যাটোর সমালোচনা করে একে ‘কাগজের বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জোটের দেশগুলোকে তাদের সামরিক ব্যয় জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জোটের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলনে ওয়াশিংটনের অস্থির সামরিক নীতির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
