গাজায় সংবাদ প্রচারে বাধা ও ফরাসি সাংবাদিককে বহিষ্কারে তীব্র নিন্দা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম দমনের অভিযোগ

ফরাসি সাংবাদিক অ্যালিস ফ্রুসার্ডকে বিনা নোটিশে ইসরায়েল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চলমান নগ্ন হস্তক্ষেপের নজির হিসেবে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে তাদের নীতি নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন তৈরির জের ধরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে দেশটির ডায়াসপোরা বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্রুসার্ডের বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্যারিস এ বিষয়ে সাংবাদিক ফ্রুসার্ডের পাশে দাঁড়ালেও ইসরায়েলের সার্বভৌম ক্ষমতার দোহাই দিয়ে তার বহিষ্কারাদেশের আইনি বৈধতাকে মেনে নিয়েছে। অথচ ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ফ্রুসার্ডের ভ্রমণপূর্ব যাবতীয় অনুমোদন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। সংগঠনটির ভাষ্যমতে, সরকার যখনই কোনো সাংবাদিকের প্রতিবেদনকে ‘একপাক্ষিক’ বলে মনে করে, তখনই এ ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্বিচার হামলা চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শত শত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে গত প্রায় তিন বছরে কোনো বিদেশি সাংবাদিককে গাজার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের কারণে গাজার মানবিক বিপর্যয় এবং সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির খবর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সত্যকে আড়াল করতে এবং বৈশ্বিক জনমতকে নিয়ন্ত্রণ করতেই ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করছে। ফ্রুসার্ডের বহিষ্কারাদেশের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%