রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, লক্ষ্য ৮০ নতুন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসন মোকাবিলায় মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সাইপ্রাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর জোটের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সোমবার নতুন করে আরও ৮০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই নতুন তালিকাটি রাশিয়ার সামরিক-শিল্প অবকাঠামো, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এবং যুদ্ধের প্রচারণায় জড়িতদের লক্ষ্য করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি এরই মধ্যে ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কাজা কালাস দাবি করেছেন, ভ্লাদিমির পুতিন অর্থ, জনবল এবং যুদ্ধের গতি—সবকিছুই হারাচ্ছেন। এই ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার কারণেই রাশিয়া ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা আরও তীব্র করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইউক্রেনকে সরবরাহ করা অস্ত্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো বা ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই তহবিল নিয়ে হাঙ্গেরি আপত্তি জানিয়ে আসলেও, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশটি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কাজা কালাস প্রস্তাব করেছেন যে, এই অর্থ শুধু অতীতের অস্ত্র সরবরাহের ক্ষতিপূরণ হিসেবে নয়, বরং যৌথভাবে অস্ত্র কেনা এবং সামরিক সহায়তার কাজেও ব্যবহার করা উচিত।
ইতিমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থা বহাল রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র রুশ তেল আমদানির বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে কিছুটা ছাড় দিয়েছে, তবে ইউরোপ তার কঠোর নীতিতে অটল থাকার বার্তা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফ থেকে এ বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়েছে। কাজা কালাস স্পষ্টভাবে বলেছেন, আলোচনার জন্য এখনো উপযুক্ত সময় আসেনি। তিনি রাশিয়ার ওপর চূড়ান্ত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে কৌশলগত ধৈর্য ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে মস্কো প্রকৃত অর্থেই অর্থবহ আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
