৩৯ দেশের অভিবাসন সংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন আদালত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক ৩৯টি দেশের অভিবাসীদের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ বেআইনি ঘোষণা করেছেন দেশটির এক ফেডারেল আদালত। ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পর নভেম্বর মাসে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছিল। ডিস্ট্রিক্ট জজ জন ম্যাককনেল শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায়ে এই পদক্ষেপকে ‘অনির্দিষ্টকালের আইনি জটিলতা’ হিসেবে অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছেন।
বিচারক ম্যাককনেলের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি কার্যত ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন, গ্রিন কার্ড, কর্মঅনুমতি এবং নাগরিকত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার প্রক্রিয়াকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আসলে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব আড়াল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। বিচারক স্পষ্ট করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো অপরাধ করেননি, বরং শুধুমাত্র তাদের জন্মস্থানের কারণেই তাদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই বিধিনিষেধের ফলে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বহু মানুষ কর্মসংস্থান ও আইনি মর্যাদা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকা পড়ে এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন পথগুলোকেও সংকুচিত করার নীতি গ্রহণ করে। জানুয়ারিতে পৃথক এক আদেশে রাষ্ট্রদপ্তর ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করে। একইসাথে শরণার্থীদের সংখ্যায় কঠোর সীমা আরোপ এবং নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ওঠে।
ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিমান এক বিবৃতিতে এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে কেন্দ্রীয় সরকার কোনোভাবেই আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে না। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে ভুক্তভোগী পরিবার, শ্রমিক এবং আশ্রয়প্রার্থীরা দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির আশা দেখছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা