সোমালিয়ায় সহিংসতার অবসান, ক্ষমতা নিয়ে বিরোধে অটল বিরোধী পক্ষ

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে গত দুই দিন ধরে চলা ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটেছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানী শান্ত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো চরম অস্থিতিশীল। প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে বিরোধীদের সাথে সরকারের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সোমালিয়ার তথ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে আবদিয়াজিজ এবং হাওলওয়াদাগ জেলাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে সরকারি বাহিনী। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিরোধী দলীয় মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সহিংসতায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রাণ বাঁচাতে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই মূলত এই অস্থিরতার সূত্রপাত। প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন, পার্লামেন্ট আইনগতভাবেই তার মেয়াদ বাড়িয়েছে, কিন্তু বিরোধী জোট এটিকে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। সংঘাতের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান আলি খাইরে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ শরীফ শেখ আহমেদের বাসভবনের আশেপাশে তীব্র গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

যদিও সরকারি মধ্যস্থতায় এবং স্থানীয় গোত্রপ্রধানদের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিরোধী নেতারা সুরক্ষিত এলাকাগুলোতে সরে যান, তবুও বিরোধীরা তাদের অবস্থানে অটল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান আলি খাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ভীতি প্রদর্শন করে তাদের দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তারা আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বিজ্ঞাপন

এই সংঘাতের ফলে রাজধানী মোগাদিসুর অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশটির বৃহত্তম বাজার বাকারা বন্ধ থাকার পাশাপাশি মাক্কা আল-মুকারামা সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলো অবরুদ্ধ ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই সহিংসতায় ব্যবসায়িক ও সেবামূলক খাতে প্রায় ৩৮ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা সোমালিয়ার শাসনব্যবস্থা নিয়ে চলমান এই সংকট দেশটির ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে দেশটিতে কোনো সরাসরি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ার পর থেকে মূলত গোত্রপ্রধান ও অভিজাত শ্রেণির সমঝোতার মাধ্যমেই দেশটির নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়ে আসছে, যা বারবারই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%