যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বিল নিয়ে সেনেটে রিপাবলিকানদের অগ্নিপরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক একটি বিতর্কিত অর্থায়ন বিল পাস করার লক্ষ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা এই বিলটি পাস করার প্রক্রিয়াটি বৃহস্পতিবার বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করায় প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
এই ধারাবাহিক ভোটাভুটির প্রক্রিয়াকে সিনেটের অলিন্দে ‘ভোট-এ-রামা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের বলরুম প্রকল্প, শুল্কনীতি এবং ইসরায়েল ও ইরান ইস্যুতে মার্কিন অবস্থানসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে ভোট নেওয়া হচ্ছে। সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা চাক শুমার মন্তব্য করেছেন যে, প্রতিটি সংশোধনী এবং ভোটের মাধ্যমে রিপাবলিকানদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
তালিকায় থাকা অন্যতম বিতর্কিত বিষয় ছিল ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল। সমালোচকদের মতে, এই তহবিলটি ট্রাম্পের মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও বিচার বিভাগ এই প্রকল্প থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবুও ডেমোক্র্যাটরা আইন করে এটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে বৃহস্পতিবার সিনেটের রিপাবলিকানরা এই তহবিল বন্ধের প্রস্তাবটি খারিজ করে দিয়েছেন।
বিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না, কারণ ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে মাত্র ৫৩টি আসন। ফিলিবাস্টার বা দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক ঠেকিয়ে বিল পাস করতে হলে অন্তত ৬০ ভোটের প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানরা একটি জটিল পদ্ধতিগত কৌশলের মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করছেন। সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন স্বীকার করেছেন যে, দলের অনেক সদস্যের মধ্যে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাই ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
মূলত মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের অর্থায়ন নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের বলরুম প্রকল্পের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা খরচের দাবি বিলটির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যাপক সমালোচনার মুখে রিপাবলিকানরা সেই প্রস্তাব বাদ দিতে বাধ্য হয়।
সবকিছু ঠিক থাকলে এবং রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় থাকলে বৃহস্পতিবার গভীর রাত অথবা শুক্রবারের মধ্যে বিলটি সিনেটে পাস হতে পারে। এরপর বিলটি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপনের কথা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের আনা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব এবং দলের ভেতরেই ট্রাম্পের নীতির প্রতি ক্রমবর্ধমান বিরোধ রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
