জাতিসংঘের সভায় ভিসা প্রদানে গড়িমসি, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাশিয়ার তীব্র ক্ষোভ

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভায় যোগদানের লক্ষ্যে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার আলিমভকে ভিসা প্রদান না করায় ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেছে মস্কো। রাশিয়ার অভিযোগ, ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তার আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির স্বকীয়তা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী হিসেবে দেখছে ক্রেমলিন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আলিমভ জাতিসংঘের বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছেন এবং এ সভায় তার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ভিসা ইস্যু না করায় একে ওয়াশিংটনের একটি পরিকল্পিত অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য। নেবেনজিয়া আরও উল্লেখ করেন, ভিসা না দেওয়ার এই ঘটনা কেবল চুক্তির লঙ্ঘনই নয়, বরং মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্বকারী রাষ্ট্র চীনের প্রতি এক চরম অশ্রদ্ধার নিদর্শন। এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একই সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। অতীতেও বিভিন্ন সময় ইরানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের ওপর ওয়াশিংটনের ভিসা বিধিনিষেধ ও চলাচলের সীমাবদ্ধতা আরোপের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
