কিয়েভ ত্যাগের নির্দেশ রাশিয়ার চরম উত্তেজনার নতুন সঙ্কেত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীদের দ্রুত শহর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, কমান্ড সেন্টার এবং ড্রোন উৎপাদন কারখানা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার হুমকির পর মস্কো এমন কঠোর অবস্থান নিল। গত সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কিয়েভজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সামরিক অবকাঠামোগুলোর ওপর এই হামলা চালানো হতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওকে কিয়েভ থেকে দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মস্কোর ভাষ্যমতে, লুহানস্ক অঞ্চলের তারোবিলস্কে একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানানো হয়েছে, তারা ওই এলাকায় রাশিয়ার একটি ড্রোন কমান্ড ইউনিটের ওপর নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাতে কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন ও রকেট হামলায় চারজন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় এবং ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন সক্ষমতার মুখে কোণঠাসা হয়ে রাশিয়া এখন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। জার্মানি মার্শাল ফান্ডের ওয়ারশ কার্যালয়ের পরিচালক ফিলিপ বেডনারজিক আল-জাজিরাকে বলেন, ইউক্রেনের মনোবল ভাঙতে ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা রাশিয়ার এই হুমকিকে ‘ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে অভিহিত করে মিত্র দেশগুলোকে চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এই সংঘাত নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে আছে, যার প্রধান কারণ দখলকৃত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাশিয়ার অনীহা। এদিকে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে যাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে শান্তি প্রক্রিয়ায় আরও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণাত্মক মনোভাব শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎকে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
