AdvertisementAdvertisement

পোল্যান্ডে ৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন: ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ৫,০০০ সেনা মোতায়েনের আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি এবং ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ইউরোপীয় মিত্ররা তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়নে কোন বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেবে, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান ধোঁয়াশার মধ্যে পড়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অপ্রত্যাশিত মোতায়েনের ঘোষণা দেন। ডানপন্থী পোলিশ প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওয়ারোকির সাথে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন কয়েকদিন আগেই পোল্যান্ডে একটি পূর্ব-পরিকল্পিত সেনা মোতায়েন বাতিল করা হয়েছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে ইউরোপে সামরিক সহায়তা কমানোর পূর্ববর্তী ঘোষণার সম্পূর্ণ বিপরীত। গত কয়েক বছর ধরে ট্রাম্প ইউরোপীয় ন্যাটো অংশীদারদের প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় না করার জন্য কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন-ইসরায়েল ইরানের যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করায় এবং সংঘাতে যোগ দিতে অস্বীকার করায় তার ক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়েছে।

গত সপ্তাহে পেন্টাগন হঠাৎ ঘোষণা করেছিল যে, তারা পোল্যান্ডে ৪,০০০ সেনা মোতায়েনের পূর্ব-পরিকল্পনা বাতিল করেছে। এর আগে এই মাসের শুরুতে, ইরানের আলোচকদের দ্বারা ওয়াশিংটন ‘অপমানিত’ হয়েছে বলে মন্তব্য করায় চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের সাথে বিবাদের জেরে ট্রাম্প জার্মানি থেকে ৫,০০০ সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে তিনি আরও বেশি সংখ্যক সেনা কমানোর ইঙ্গিত দেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পোলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, পোল্যান্ড মার্কিন সেনা মোতায়েনের ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বহন করে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা মূলত বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, পোল্যান্ড এবং ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

ইউরোপীয় দেশগুলো ধীরগতিতে হলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিকল্প তৈরির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। তবে, হোয়াইট হাউস থেকে আসা অসংলগ্ন নীতিগুলি কোন বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে সূত্রগুলি জানাচ্ছে। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড শুক্রবার ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে সাংবাদিকদের বলেন, “এটি সত্যিই বিভ্রান্তিকর এবং সব সময় এর সাথে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়।” এপি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও এ নিয়ে বিভ্রান্ত। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “আমরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রথম ঘোষণার প্রতিক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এখন এর অর্থ কী, আমরাও জানি না।”

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কারণ তারা মার্কিন-ইসরায়েল ইরানের যুদ্ধে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এর ফলস্বরূপ ওয়াশিংটন সামরিক জোট থেকে সরে আসতে পারে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, শুক্রবার ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং বৃহত্তর দায়িত্বভার বহনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট, যিনি গত কয়েক মাস ধরে জোটের সহকর্মীদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের অসন্তোষ প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন, পোল্যান্ডে ট্রাম্পের সেনা মোতায়েনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে, তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ইউরোপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। এদিকে, রুবিও সুইডেনে ন্যাটো সমকক্ষদের সাথে সাক্ষাৎ করার সময়, পেন্টাগনের সিনিয়র কর্মকর্তারা ব্রাসেলসে জোটের সদর দফতরে ন্যাটো অংশীদারদের ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।

মঙ্গলবার পেন্টাগন ঘোষণা করেছে যে, তারা ইউরোপে মোতায়েন যুদ্ধ ব্রিগেডের সংখ্যা চার থেকে তিনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্রদের অনেকেই অসন্তুষ্ট। এর ফলে তাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ইউরোপীয় নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া, ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার ট্রাম্পের হুমকি নিয়েও ইউরোপীয় ন্যাটো দেশগুলো উদ্বিগ্ন। বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডে ঘোষিত এই সেনা মোতায়েনে পূর্বের বাতিল হওয়া সেনারা অন্তর্ভুক্ত কিনা বা জার্মানি থেকে স্থানান্তরিত সেনাদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%