তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া সি বিজয় জোসেফের ৫২তম জন্মবার্ষিকীতে তাকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বিজয়ের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তামিল জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের লড়াইয়ে বিজয়ের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। জবাবে বিজয়ও রাহুল গান্ধীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের নতুন সমীকরণ সামনে এনেছেন।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮ আসনে জয়লাভ করে বিজয়ের দল তামিলনাড়ু ভেট্রি কাজাগাম বা টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সরকার গঠনের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল অতিরিক্ত সমর্থন। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ৫টি আসন এবং সিপিআইএমসহ সমমনা দলগুলোর সমর্থনে মোট ১১টি আসনের যোগফলে বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে রাহুল গান্ধীর ৫৬তম জন্মদিনে বিজয়ের শুভেচ্ছা বার্তা এবং সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক সংহতি দুই নেতার মধ্যকার গভীর সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে তামিলনাড়ুর এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ দেশটির ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্দরে বড় ধরনের সংকটের আভাস দিচ্ছে। কংগ্রেসের সাথে বিজয়ের এই ঘনিষ্ঠতায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকে। ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন এবং তার পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিন এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ডিএমকের মুখপত্র মুরাসোলিতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মিত্রদের দুর্বল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি ডিএমকে তাদের দিল্লির বৈঠক বয়কট করে সংসদেও বিরোধী জোটের আসন থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জাতীয় রাজনীতির এই অস্থিরতা এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন বিরোধী শিবিরের ভাঙনকে কাজে লাগিয়ে সংসদের নিম্নকক্ষে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক দলগুলোর সাম্প্রতিক ভাঙন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেস ও ডিএমকের মধ্যকার এই ফাটল জাতীয় পর্যায়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
আঞ্চলিক রাজনীতির এই জটিল রসায়নে বিজয় নিজেকে বিজেপি-র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বাইরে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ধারার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেছেন। যদিও ইন্ডিয়া জোটের ভেতর রাজ্য ও কেন্দ্র পর্যায়ের এই বৈপরীত্য নতুন নয়, তবুও তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিরোধী ঐক্যের ভিত্তিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কেরলে কংগ্রেস ও বামপন্থীদের পুরনো বৈরিতার আদলে তামিলনাড়ুর এই নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা চলছে।