ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা অবসানে ১১৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির আহ্বান, দিল্লির অবস্থান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ক্ষত এবং পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের স্মৃতি এখনো দগদগে। এমন এক উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে ১১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে দুই দেশের বিশিষ্টজনদের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আবেদনপত্রে ভারতের ৬১ জন এবং পাকিস্তানের ৫৬ জন নাগরিক স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লাহ, পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক, আরজেডি এমপি মনোজ ঝা এবং তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবির। চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধির পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

তবে এই শান্তি আলোচনার আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি কলম্বোতে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘ট্র্যাক-টু’ কূটনীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এর সঙ্গে সরকারি সংশ্লিষ্টতা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ ধরনের ব্যক্তিগত বা বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো যোগসূত্র বা সমর্থন নেই এবং একে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অবকাশ নেই।

গত বছর গুজরাটের ভুজে এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, শান্তি বজায় রেখে জীবন যাপন করাই শ্রেয়, অন্যথায় ভারতীয় সেনার গুলির জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। দিল্লির পক্ষ থেকে বারবারই এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্ভব নয়। সন্ত্রাসের বাতাবরণ আর কূটনৈতিক আলোচনা যে সমান্তরালভাবে চলতে পারে না, তা নিয়ে ভারত তার সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছে।

বর্তমানে সিন্ধুর জলের অধিকার নিয়ে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান দাবি এবং অধিকৃত কাশ্মীরে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভের জেরে দুই দেশের সম্পর্কের পারদ আরও চড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ১১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির এই চিঠি কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেও, দিল্লির চিরাচরিত কঠোর অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%