অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বিতরণ শুরু, ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করে যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে অর্থ সহায়তা

ভারতর অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের আওতায় জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকেই সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জন মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অযোগ্যদের বাদ দিতে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেছে রাজ্য সরকার।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। মূলত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে না পারা এবং ভোটার তালিকায় নাম না থাকা বা তথ্যে অমিল থাকায় এই বিপুল সংখ্যক আবেদন খারিজ করা হয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি জনগণের করের টাকা এবং সরকারের লক্ষ্য হলো প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগীদের হাতে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। যারা যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেককেই এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

বিভিন্ন সময় এই প্রকল্পের ১২ পাতার ফর্ম এবং যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তার জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ ফর্ম পূরণের উদ্দেশ্য হলো সুবিধাভোগীদের সকল তথ্য নথিবদ্ধ করা, যাতে পরবর্তীতে তাদের অন্য কোনো সরকারি প্রকল্পের জন্য পুনরায় নতুন করে আবেদন করতে না হয়। সরকারি প্রকল্পের অর্থ অপচয় রোধে এই কঠোর নিয়মাবলি প্রয়োজনীয় বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জুলাই ও আগস্ট মাস জুড়ে নতুন করে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অভারতীয় বা বিদেশি নাগরিকদের সরকারি অনুদান পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থী এবং যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-এর অধীনে আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হচ্ছে বা ট্রাইব্যুনালে তাদের আবেদন বাতিল বলে গণ্য হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই সামাজিক ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

এদিন আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতর মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও যোগ করেন, আগের প্রকল্পে অনেক পুরুষ সুবিধাভোগী থাকলেও এবার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকল্পের সঠিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শুধুমাত্র যোগ্য নারী আবেদনকারীদেরই এই ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%