মোদী ও শি জিনপিংকে বিশ্বনেতাদের তালিকায় শীর্ষে রাখলেন ট্রাম্প

বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু নিয়ে আলোচনার মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের পছন্দের বিশ্বনেতাদের তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নাম উল্লেখ করে নতুন করে কূটনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছেন। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বিশ্বের কোন নেতাদের তিনি সর্বাধিক শ্রদ্ধা করেন বা প্রশংসা করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুই প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অত্যন্ত দক্ষ নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মোদীর অসামান্য সাফল্য, ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিতে, নরেন্দ্র মোদী এমন একজন ক্ষুরধার নেতা, যিনি ভারতের জনসাধারণের মাঝে নিরবচ্ছিন্ন ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শাসনকৌশল ও নেতৃত্বের দৃঢ়তারও প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল রাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীলভাবে পরিচালনা করার চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক দক্ষতার কথা উল্লেখ করেন। চীনের ওপর শি জিনপিংয়ের অটুট নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার সুদূরপ্রসারী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ও তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ থেকে ব্যক্তিগত নেতৃত্বের সক্ষমতাকে আলাদা করে দেখার একটি বার্তা দিয়েছেন। ক্ষমতার মঞ্চে দুই মেরুর দুই নেতার প্রতি তার এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার ভারসাম্য সম্পর্কেও ইঙ্গিত বহন করে।

ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ও সুসম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে ‘হাউডি মোদী’ কিংবা ভারতে ‘নমস্তে ট্রাম্প’-এর মতো বিশাল জনসমাবেশগুলো সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ভারত ও চীনকে সমকালীন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%