সিন্ধু জলবণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তান নতুন উত্তজনা: ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদের

সিন্ধু জলচুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাকিস্তানের প্রাপ্য জল আটকানোর অভিযোগে ভারতের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অধিকারভুক্ত জলের ওপর কোনো পক্ষ হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন যে, ভারতর প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের ভাগের জল আটকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল, তাই নদীর প্রবাহ বন্ধ হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান চরম সংকটের মুখে পড়বে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের জলের অংশে কেউ হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা উল্লাহ তারার একই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দাবি করেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি আইনগতভাবে অটুট এবং কোনো দেশই একতরফাভাবে তা বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত এই অধিকার রক্ষায় পাকিস্তান বদ্ধপরিকর এবং বিশ্বের বিভিন্ন মহল থেকে তারা সমর্থন পাচ্ছেন বলে দাবি করেন।

এদিকে ভারত তার অবস্থানে অটল রয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং বিগত সময়ে সাধারণ নাগরিক হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতর সরকার সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতর কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাটিল জানিয়েছেন, আগামী ১.৫ থেকে ২ বছরের মধ্যে ভারত সিন্ধু অববাহিকায় নিজেদের প্রাপ্য জলের সম্পূর্ণ ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, ভারতর অংশের এক ফোঁটা জলও আর পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হতে দেওয়া হবে না।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি দীর্ঘ সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এক প্রকার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহাসিক চুক্তি এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে ফাটল তৈরি হতে পারে। ভারত এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তির বিষয়ে নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%