শাহ আমানত বিমানবন্দরে স্বর্ণের জায়গা দখল করল চোরাই সিগারেটের চালান

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালানের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এক বছর আগেও যেখানে চোরাচালানিদের মূল লক্ষ্য ছিল স্বর্ণের বার, বর্তমানে সেখানে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে বিদেশি সিগারেট। এর পাশাপাশি নিষিদ্ধ কসমেটিকস এবং ল্যাপটপসহ উচ্চ শুল্কের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য চোরাইপথে আনার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, প্রতি শলাকা সিগারেটে প্রায় ১৭ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারিরা ১০ প্যাকেটের এক কার্টন থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার বেশি মুনাফা করছে। স্বর্ণ চোরাচালানের তুলনায় এতে আইনি ঝুঁকি কম হওয়ায় সংঘবদ্ধ চক্রগুলো এখন এই পথে ঝুঁকছে। দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটগুলোতেই মূলত এই অবৈধ পণ্যের আনাগোনা বেশি। জেদ্দা, মক্কা-মদিনা, দোহা, শারজাহ, আবুধাবি ও মাস্কাট রুট ব্যবহার করেও পণ্য আনা হচ্ছে।

বিগত ছয় মাসে বিমানবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান আটক করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল ডিসেম্বর মাসেই ছয় হাজার ৫৪৪ কার্টন সিগারেট ও এক হাজার ৬৪৯টি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত মোট ২৫ হাজার কার্টন সিগারেট ও বিপুল পরিমাণ প্রসাধন সামগ্রী জব্দ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সিগারেটের আড়ালে এটি চোরাকারবারিদের একটি কৌশলও হতে পারে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোযোগ সরিয়ে স্বর্ণ বা মাদকের বড় চালান পার করা যায়।

এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিমানবন্দরের কিছু অসাধু সিকিউরিটি গার্ড ও ঠিকাদার জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পার্কিং এলাকার এমএস-১, এমএস-২ ও শাহ আমানত স্ন্যাক্স কর্নার কেন্দ্রিক একটি চক্র ঢাকার অন্য একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় এসব পণ্য খালাস করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলোতে যাত্রীবেশে এসে হ্যান্ড লাগেজ রেখে নেমে যাওয়া এবং পরবর্তীতে ডোমেস্টিক যাত্রী সেজে সেই লাগেজ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের অন্যতম কৌশল।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটের লাগেজ শতভাগ স্ক্যানিংয়ের আওতায় এনেছে। তবে স্ক্যানিংয়ের কারণে সৃষ্ট বিলম্বকে ইস্যু বানিয়ে চোরাকারবারিরা হট্টগোল সৃষ্টি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত দোকানগুলোর বিষয়ে আইনি জটিলতা থাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর জানিয়েছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বন্দরে মুদ্রা পাচার ও শুল্ক ফাঁকি রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবার মান অক্ষুণ্ণ রেখে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও চোরাচালান প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

০%
০%
০%
০%