ওবিসি সংশোধনী বিল এবং গুন্ডাদমন বিল পাসকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন। বিরোধী শিবিরের তীব্র আপত্তি ও হট্টগোলের পাশাপাশি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুই গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি শক্তির লড়াই দিনভর আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে দুই শিবিরের এমন দড়ি টানাটানি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে ওবিসি সংশোধনী বিল পেশের সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবির দাবি করে, মমতাপন্থী আরও তিন জন বিধায়ক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন সমর্থনের ফলে তাদের সঙ্গে থাকা বিধায়কের সংখ্যা ৬৫ থেকে বেড়ে ৬৮ জনে পৌঁছেছে। তবে ওই তিন বিধায়কের পরিচয় বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দুপুরের পর পরিস্থিতির মোড় ঘোরে গুন্ডাদমন বিলের ভোটাভুটি ঘিরে। এই ইস্যুতে পাল্টা দাবি তোলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, ঋতব্রত শিবিরের চার জন বিধায়ক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সেই কারণেই তারা ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এই দাবিকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ।
গুন্ডাদমন বিলের ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ১৭৬টি ভোট পড়ে এবং ৪১ জন বিধায়ক বিলের বিরোধিতা করেন। এছাড়া ২০ জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন, যাদের কালীঘাটপন্থী শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যদিও ঋতব্রত শিবিরের দাবি অনুযায়ী তাদের বিধায়ক সংখ্যা ৪৫, কিন্তু বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৪১টি। এই চার ভোটের ব্যবধানকেই কুণাল ঘোষ নিজের দাবির সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
দুই পক্ষের কেউই এখন পর্যন্ত কোনো বিধায়কের নাম প্রকাশ্যে আনেননি, ফলে সকালের দাবির সত্যতা কিংবা বিকেলের দাবির ভিত্তি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মূলত নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবেই উভয় শিবির এমন পাল্টাপাল্টি দাবি করছে।
বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিধানসভায় ওবিসি সংশোধনী বিল ও গুন্ডাদমন বিলসহ গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো পাস করাতে সক্ষম হয়েছে সরকার। সংখ্যার বিচারে বিরোধীদের পক্ষে বিলের গতিপথ পরিবর্তন করা অসম্ভব ছিল। তবে দিনের শেষে বিধানসভার ভেতরে আইন প্রণয়নের চেয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও রাজনৈতিক কৌশলের লড়াইই বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।