বিশ্ব সংসদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বাণীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্ব, আইনের শাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার সরকারের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তানের সংবিধান একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও এর মূল্যবোধকে নিশ্চিত করে, যেখানে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সেই ক্ষমতাকে জনসেবা ও কল্যাণের পবিত্র আমানত হিসেবে ব্যবহার করেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উল্লেখ করেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইন প্রণয়নের প্রধান সাংবিধানিক কেন্দ্রবিন্দু হলো সংসদ। তার ভাষ্যমতে, পাকিস্তানের সংসদীয় গণতন্ত্র সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। নারীদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, অপেক্ষাকৃত ছোট প্রদেশ এবং অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর আজ জাতীয় সংসদের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে জোরালোভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ ও সিনেটে নারী এবং অমুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলো এই সাংবিধানিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া, ফেডারেল ইউনিটগুলোর সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পাকিস্তানের সিনেট দেশটির ফেডারেল কাঠামোকে আরও সুসংহত করছে বলে জানান তিনি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন, বিতর্ক এবং বিভিন্ন কমিটির প্রতিবেদন জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগকেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পাকিস্তানর সংসদ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সংসদীয় বন্ধুত্বের গ্রুপের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি, সংলাপ, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবশেষে তিনি বলেন, সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে পাকিস্তান তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।