যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বিখ্যাত ইন্টারলোকেন সেন্টার ফর দ্য আর্টস কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যাম্পাসের একটি লজ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একসময়ের বহুল বিতর্কিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নাম বহনকারী এই লজটি ধ্বংসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের অতীত সংশ্লিষ্টতা মুছে ফেলার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিল। অভিযোগ রয়েছে, এই লজেই একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে এপস্টেইনের দেখা হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে 'গ্রিন লেক লজ' নামে পরিচিত এই ভবনটি অপসারণ করা এখন সময়ের দাবি। একসময় এই ভবনের নাম ছিল জেফরি ই. এপস্টেইন স্কলারশিপ লজ। তবে ২০০৮ সালে এপস্টেইনের প্রথম অপরাধের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সকল নথিপত্র থেকে তার নাম মুছে ফেলে।
১৯৬৭ সালে কিশোর বয়সে ইন্টারলোকেনে ক্যাম্পার হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন এপস্টেইন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯০ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান প্রদান করেন, যার মধ্যে ২ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছিল এই লজ নির্মাণে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই ভবনটি বর্তমানে এমন এক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে যা তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্বখ্যাত এই আর্টস সেন্টারের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তালিকায় রয়েছেন গ্র্যামি বিজয়ী চ্যাপেল রোয়ান ও নোরা জোন্স এবং অস্কার বিজয়ী ডা'ভাইন জয় র্যান্ডলফের মতো তারকারা। তবে ক্যাম্পাসের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের আড়ালে এপস্টেইনের উপস্থিতি এক দীর্ঘস্থায়ী কলঙ্ক হয়ে রয়ে গেছে। অন্তত দুইজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, নব্বইয়ের দশকে ইন্টারলোকেনে থাকাকালীন এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ঐতিহাসিক অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের সেখানে সাক্ষ্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ২০১৯ সালে এপস্টেইন যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছিল, যেখানে তখন তাদের দাপ্তরিক নথিতে এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট কোনো অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, এপস্টেইন নিয়মিত ইন্টারলোকেনে যাতায়াত করতেন এবং অনেক সময় তার সহযোগী ও প্রাক্তন প্রেমিকা গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে এই লজে অবস্থান করতেন। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি অবস্থায় এপস্টেইন আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তার দায়ে ২০২১ সালে ম্যাক্সওয়েলকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।