ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দুরবস্থা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তদন্তের দাবি ট্রাম্পের অস্বীকৃতি

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের করুণ পরিস্থিতি ও মানসিক অবসাদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রণতরীটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় নাবিকদের মধ্যে আত্মহত্যাপ্রবণ আচরণসহ নানা সংকট দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রণতরীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা সব উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়েছেন, নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন নন এবং বর্তমান মোতায়েনকে তিনি মোটেও দীর্ঘ মনে করছেন না। নৌবাহিনীর এই দীর্ঘতম অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি, রণতরীটি এখন যে অবস্থায় আছে, তা পর্যাপ্ত নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে গত নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই রণতরীটি টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করছে। কোনো বন্দরে না থেমে এটি নৌবাহিনীর ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়েছে। ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের অংশ হিসেবে মোতায়েনকৃত এই রণতরীতে ৫ হাজারেরও বেশি নাবিক ও মেরিন সেনা বর্তমানে মানবেতর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর রুবেন গালেগোসহ কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য রণতরীর পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিনিধি দল পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথকে চিঠি লিখে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন ও এই দীর্ঘ মোতায়েনের সামরিক যৌক্তিকতা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, জাহাজে আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার প্রচেষ্টার কোনো ক্রমবর্ধমান হার নৌবাহিনী পর্যবেক্ষণ করেনি। জাহাজে পর্যাপ্ত চ্যাপলিন, মনোবিজ্ঞানী, সমাজকর্মী এবং আচরণগত স্বাস্থ্য বিষয়ক টেকনিশিয়ান নিয়োজিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার লক্ষণ নেই। গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই সংঘাতের রেশ ধরে হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে ওয়াশিংটন আবারও ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে সেই স্থানে সমপর্যায়ের আরেকটি রণতরী মোতায়েন করা হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%